
মুনিরুল ইসলাম মুনির
একটি প্রতারণা মামলার সমঝোতার অর্ধেক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানা–এর এএসআই মোঃ নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। একই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নূর ইসলামের বিরুদ্ধেও জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে মামলার সমঝোতা হয়। পরে সদর মডেল থানায় টাকা লেনদেন সম্পন্ন হয় বলে জানা গেছে।
সমঝোতা অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০ লাখ টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, এর মধ্যে ৫ লাখ টাকা নিয়ে নেন এএসআই নজরুল ইসলাম। বাকি ৫ লাখ টাকা দেওয়া হয় প্রতারণার শিকার চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের মৃধাপাড়ার বাসিন্দা মোঃ আব্দুল জলিল (৩২)–কে।
এছাড়া মামলা রেকর্ডের নামে দুই দফায় মোট ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। যদিও পরে ওই ২০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। ঘটনাটি জানাজানি হলে ভুক্তভোগীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী আব্দুল জলিল জানান, ‘কানাডা ওয়ার্ক পারমিট ভিসা’ নামের একটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার আদিয়ারপাড়া এলাকার মোঃ রাজু (৪০) ও মোঃ নাজু (৩৩)–এর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। বিদেশে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১৮ লাখ টাকায় চুক্তি করা হয়।
২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে বিভিন্ন মাধ্যমে ১৫ লাখ টাকা পরিশোধ করেন জলিল এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও জমা দেন। পরবর্তীতে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নম্বর- ০৭)।
মামলার শুরুতে তদন্তভার দেওয়া হয় এসআই হরেন্দ্রনাথ দেবদাশকে। পরে বদলির পর দায়িত্ব পান এসআই নূর ইসলাম। তবে অভিযোগ রয়েছে, পুরো প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দেন এএসআই নজরুল ইসলাম।
২৫ ফেব্রুয়ারি কিশোরগঞ্জ থেকে অভিযুক্ত রাজু ও নাজুকে গ্রেফতার করে পুলিশ চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিয়ে আসে। পরদিন জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে আলোচনার মাধ্যমে ১০ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়।
কিন্তু অভিযোগ, পুরো টাকা ভুক্তভোগীকে না দিয়ে ৫ লাখ টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। নিরুপায় হয়ে অর্ধেক টাকা নিয়েই বাড়ি ফেরেন আব্দুল জলিল।
অভিযোগ অস্বীকার করে এএসআই নজরুল ইসলাম বলেন, প্রতারণার ঘটনায় আসামিদের গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমে ১০ লাখ টাকায় বিষয়টির সমাধান হয়েছে। তবে ৫ লাখ টাকা নেওয়ার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি।
এসআই নূর ইসলাম দাবি করেন, তিনি শুধু আসামিদের আদালতে সোপর্দ করেছেন, সমঝোতা বা টাকা লেনদেন বিষয়ে তিনি অবগত নন।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া মুখপাত্র) এ.এন.এম ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো পুলিশ সদস্য অন্যায় করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।