
ভোলাহাট (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে সমাজ উন্নয়নে সেবার আলো ছড়াচ্ছে ধরমপুর সমাজ কল্যাণ সংস্থা। উপজেলার মধ্যে একটি আদর্শ গ্রাম গড়ার স্বপ্ন নিয়ে ১৯৮৩ সালে যাত্রা শুরু করা ‘ধরমপুর সমাজ কল্যাণ সংস্থা সাধারণ মানুষের আস্থার প্লাটফরম তৈরি হয়ে উঠেছে নিজ এলাকায়। একদল নিবেদিত মানবিক মানুষদের অক্লান্ত পরিশ্রমে সংস্থাটি গ্রামের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে একের পর এক মানবতার দেয়ালের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে।
সংস্থাটি মূলত গ্রামের বিত্তবান ব্যক্তিদের আর্থিক সহযোগিতাকে পুঁজি করে খেটে খাওয়া দরিদ্র ও মেহনতী এবং দুস্থদের মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে। কেবল সাময়িক সাহায্য নয়, বরং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে তারা। পাশাপাশি তরুণ উদ্যোক্তা তৈরীতে আয়োজন করে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের। শুধু এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকেই তারা দরিদ্র পরিবারের মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে অর্থের অভাবে ঝরে না পড়ে সেজন্য সংস্থাটি নিয়মিত শিক্ষা সহায়তা প্রদান করছে। শিক্ষার্থীদের মাঝে গাইড বই বিতরণ এবং পড়াশোনার প্রয়োজনীয় খরচ বহন করার মাধ্যমে ধরমপুর গ্রামের শিক্ষার হার বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে এই সংগঠনটি।
পাশাপাশি যুবসমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে ধরমপুর সমাজ কল্যাণ সংস্থা নিয়মিত সচেতনতামূলক কাজ করে থাকে। খেলাধুলা ও গঠনমূলক কাজে তরুণদের সম্পৃক্ত করে একটি সুস্থ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে তাদের ভূমিকা এলাকায় বেশ প্রশংসিত। তারা মানবতার কাজ ছাড়া পরিবেশ রক্ষায় গ্রামের রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সংস্থাটি নিয়মিত কাজ করে।
বিশেষ করে গ্রামের ও রাস্তার ফাঁকা অংশে বর্ষাকালে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে তারা গ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে কাজ করছে। পাশাপাশি গ্রামের কবরস্থান পরিস্কারকরণ ও চারপাশে প্রাচীরের ধারে ফুলে গাছ লাগানো কর্মসূচী ছিল অভূতপূর্ব পদক্ষেপ। তারা এসবের পরেও নিজ পরিবারগুলোর মধ্যে আনন্দ ভাগাভাগি করতে প্রতিবছর ঈদুল আযহার পরদিন গ্রামের সকল স্তরের সকল বয়সী নারী-পুরুষ, কিশোর কিশোরীদের নিয়ে সংস্থাটি সাংস্কৃতিক ও নানা ধরেনের ক্রিড়া প্রতিযোগীতার আয়োজন করে থাকে। উপজেলার যেকোনো টুর্নামেন্টে গ্রামের খেলোয়াড়দের সম্পৃক্ত করে থাকে।
সংস্থাটি ২০২৫ সালে ঈদুল ফিতর হতে নতুন পদক্ষেপ হিসাবে যুক্ত করেছে ঈদ মিলন মেলা ও বার্ষিক বনভোজন। ঈদুল ফিতরের পরদিন গ্রামের সকল শ্রেণীর বাসিন্দা নিয়ে ঈদ মিলন মেলা ও বনভোজন আয়োজন করে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা মহামারীতে জীবন বাজি রেখে মানুষের পাশে দাঁড়ায় এই সংস্থার সেচ্ছাসেবী কর্মীরা। বিগত দিনে করোনা মহামারীর কঠিন সময়ে যখন জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছিল ঠিক তখন গ্রামের বিত্তবান -চাকুরিজীবিদের হতে অর্থ সংগ্রহ করে অসহায় দিনমজুর ও দরিদ্র গ্রামবাসিদের ৪ দফায় ত্রাণ প্রদান করেছিল। এর পাশাপাশি মাস্ক বিতরণ ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে সংস্থাটির বিশেষ অবদান স্থানীয় প্রশাসনের নজর কেড়েছিল।
সংগঠনটির সভাপতি মো: কামরুজ্জামান ফারুক বলেন, আমরা আমাদের গ্রামের দলমত, জাতি, ধর্ম- বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে আত্ম মানবতার কাজে নিজেদের নিয়োজিত করেছি। আমরা সবার সহযোগিতা নিয়ে গ্রামের তথা সমাজে সেবার আলো ছড়িয়ে দিতে চাই।
সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমান টুনটুন বলেন, বর্তমানে ধরমপুর সমাজ কল্যাণ সংস্থাটি জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর হতে রেজিস্ট্রেশনের চেষ্টায় রয়েছি। রেজিষ্ট্রেশন হলে মানবিক পথচলা ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে বিস্তৃত হবে এবং অন্যান্য এলাকার জন্য একটি রোল মডেল হয়ে থাকবে বলে জানান তিনি।