
নিউজ ডেস্ক
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর দায়পুকুরিয়া ইউনিয়নের চকশ্রীরাম ও চকদিলালপুর মৌজায় অবস্থিত ডাকরা দিঘী জলমহাল ইজারা নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ তুলেছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলোমগীর রেজা। তিনি দাবি করেছেন, জলমহালটি এখনো কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি এবং এ বিষয়ে প্রচারিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, ডাকরা দিঘী জলমহাল থেকে প্রাপ্ত ইজারার অর্থ ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা হয়। সাবেক চেয়ারম্যান মো. আতিকুল ইসলাম জুয়েলের সময় জলমহালটি পাঁচ বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছিল। পরে বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আলোমগীর রেজা দায়িত্ব গ্রহণের পর জলমহাল নীতিমালা অনুযায়ী তিন বছরের জন্য ইজারা দেয়।
অবশিষ্ট দুই বছরের জন্য নতুন করে ইজারা দেওয়ার লক্ষ্যে ইউনিয়নজুড়ে মাইকিং করে আগ্রহী ব্যক্তিদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে কেউ ইজারার সিডিউল ক্রয় না করায় ইজারা কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি বলে জানায় ইউনিয়ন পরিষদ।
ইউপি চেয়ারম্যান মো. আলোমগীর রেজা বলেন, “জলমহালটি ইজারা দেওয়ার আগেই জানতে পারি, আমাকে জড়িয়ে প্রচার করা হচ্ছে, যে আমি নাকি এটি ইজারা দিয়ে ফেলেছি। প্রকৃতপক্ষে কাউকেই ইজারা দেওয়া হয়নি। একটি কুচক্রী মহল পরিষদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর জলমহালের আয়সহ বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ দিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়নমূলক কাজ অব্যাহত রেখেছি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
এ বিষয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মনিরুজ্জামান বাবুল এবং ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আব্দুস সালাম বলেন, তাঁরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করছেন। জলমহালের ইজারার অর্থ ইউনিয়নের উন্নয়নেই ব্যয় করা হয়।
তাঁরা বলেন, “তিন বছরের ইজারা থেকে উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়েছে। অবশিষ্ট দুই বছরের জন্য দুই দিন ধরে মাইকিং করা হলেও কেউ সিডিউল ক্রয় করেনি। তাই ইজারা দেওয়া সম্ভব হয়নি। ভবিষ্যতে নীতিমালা অনুযায়ী ইজারা দেওয়া গেলে সেই অর্থও ইউনিয়নের উন্নয়নমূলক কাজেই ব্যয় করা হবে।”
ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম বলেন, “পূর্ববর্তী পরিষদও পাঁচ বছরের জন্য জলমহাল ইজারা দিত। আমরা তো জলমহাল বিক্রি করে নিয়ে যাচ্ছি না। এর আয় ইউনিয়নের উন্নয়নে ব্যবহার করা হয়।”
ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, জলমহালটি বর্তমানে কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে তারা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।