আহমাদুর রহমান
চাঁপাইনবাবগঞ্জে রাণীহাটি ঈদগাহ জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা এইচ এম আলী হাসান মুজাহিদের পদত্যাগের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ কোর্ট চত্বরে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
“ইসলামের পথে জুলুমের বিরুদ্ধে” স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত মানববন্ধনে জেলার বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, আলেম ও মুসল্লিরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ইমাম ও আলেমদের ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কোনো ইমামের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা যথাযথভাবে তদন্ত ও যাচাইয়ের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
বক্তারা রাণীহাটি ঈদগাহ জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা এইচ এম আলী হাসান মুজাহিদের পদত্যাগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ইমামদের হয়রানি বন্ধ এবং তাদের দায়িত্ব পালনে সহযোগিতার দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি রাজশাহীর কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় সভাপতি ড. মাওলানা এইচ এম শহিদুল ইসলাম মোল্লা, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মো. ওমর ফারুক, সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল কাদের, সহ-সেক্রেটারি মাওলানা মো. তৈমুর রহমান, ফোরকানিয়া ও মক্তব বিভাগীয় সেক্রেটারি মাওলানা মো. আব্দুর রাকিব রহমানী এবং সাংগঠনিক সেক্রেটারি মাওলানা মো. আইয়ুব আলী খান।
বক্তারা আরও বলেন, ইমাম সমাজের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের চাপ বা হয়রানি কাম্য নয়। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনরত ইমামদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য বিবেচনা ও ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানান তারা।
মানববন্ধন শেষে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। সমিতির জেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল কাদের স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে ইমামদের বিরুদ্ধে হয়রানি বন্ধ, দায়িত্ব পালনে নিরাপত্তা ও সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
উল্লেখ্য, রাণীহাটি ঈদগাহ জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আলী হাসান মুজাহিদের পদত্যাগের ঘটনা নিয়ে এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে খুতবায় প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হলেও, ইমাম নিজে দাবি করেছেন যে তিনি ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থায় রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব-কর্তব্য নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে উদাহরণ হিসেবে তারেক রহমানের নাম উল্লেখ করেছিলেন এবং মানহানিকর বা আপত্তিকর মন্তব্য করেননি।