
শিবগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা ও প্রয়োজনীয় উপকরণ পেয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে খামার পরিচালনা করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার অনেক খামারি। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের সহযোগিতায় লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (এলডিডিপি)-এর আওতায় প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেদের খামারে সেই জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নেও ভূমিকা রাখছেন তারা।
২০১৯ সাল থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত শিবগঞ্জ উপজেলায় এলডিডিপি প্রকল্পের আওতায় প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এর অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় খামারিদের আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক খামার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে প্রশিক্ষিত করা এবং তাদের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা।
শিবগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তত্ত্বাবধানে এ প্রকল্পের আওতায় মোট ৯৭৪ জন খামারিকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে খামারিরা পশু-পাখির পরিচর্যা, রোগ প্রতিরোধ, খাদ্য ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসম্মত খামার পরিচালনা ও উৎপাদন বৃদ্ধির বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান লাভ করেন।
পরবর্তীতে প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান নিজেদের খামারে প্রয়োগ করে অনেকেই সফলতা অর্জন করেছেন।প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নির্বাচিত খামারিদের বিভিন্ন ধরনের সহায়তা ও উপকরণ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১৫১ জন খামারিকে মুরগির ঘর, ১৫০ জন খামারিকে ছাগলের ঘর, ১৪ টি খামারি গ্রুপকে দুধ দোহন মেশিন এবং ৮০ জন খামারিকে ফ্যান প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ১৪ টি খামারি গ্রুপকে ঘাস কাটার মেশিন দেওয়া হয়। এসব উপকরণ খামারিদের উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনায় সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
খামারিরা জানান, আগে অনেকেই প্রচলিত পদ্ধতিতে খামার পরিচালনা করতেন। ফলে রোগবালাই, খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচর্যার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হতো। এলডিডিপি প্রকল্পের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা আধুনিক পদ্ধতিতে খামার পরিচালনার বিষয়ে ধারণা পান। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি পাওয়ায় তাদের কাজ আরও সহজ হয়েছে। বর্তমানে তারা নিজেদের খামার পরিচালনার পাশাপাশি পরিবারের আয় বৃদ্ধিতে অবদান রাখছেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, খামারিদের প্রশিক্ষিত করার মূল লক্ষ্য ছিল তাদের আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে খামার পরিচালনায় সক্ষম করে তোলা। প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়ার পর খামারিরা নিজেদের অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। এর ফলে একদিকে যেমন তাদের আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে প্রাণিসম্পদ উৎপাদনও বাড়ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে দক্ষ ও সচেতন খামারি তৈরির কোনো বিকল্প নেই। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান বাস্তবে প্রয়োগ করাই প্রকল্পের সফলতার অন্যতম দিক। শিবগঞ্জের খামারিরা এ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের পাশাপাশি দেশের প্রাণিসম্পদ খাতেও অবদান রাখছেন।
স্থানীয় খামারিদের মতে, প্রশিক্ষণ ও সরকারি সহায়তা তাদের খামার পরিচালনায় আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা অব্যাহত থাকলে আরও বেশি মানুষ প্রাণিসম্পদ খাতের সঙ্গে যুক্ত হয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এলডিডিপি প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ ও উপকরণ সহায়তার মাধ্যমে শিবগঞ্জে ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের খামারিদের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও প্রাণিসম্পদ উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।