চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
এসআইএল ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর ডিআইবি (DIB) প্রকল্পের আওতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ এরিয়া অফিসের উদ্যোগে ১০ জুন ২০২৬ তারিখে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আতাহার-যুগিডাইং এলাকায় পারিবারিকভাবে হাঁস-মুরগি পালন বিষয়ক প্রশিক্ষণ, হাঁসের বাচ্চা বিতরণ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা সম্প্রসারণে আর্থিক সহায়তা প্রদান কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ কর্ম এলাকার লক্ষিত জনগোষ্ঠীর শিখন চক্র দলের (এলসি) সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোসা. শারমিন আক্তার, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার, সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি পারিবারিক পর্যায়ে লাভজনকভাবে হাঁস-মুরগি পালনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি হাঁস-মুরগির সঠিক পরিচর্যা, বিভিন্ন বয়সে উপযোগী খাদ্য ব্যবস্থাপনা, রোগ প্রতিরোধ, টিকাদান, খামার ব্যবস্থাপনা এবং বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে লাভজনক উৎপাদনের কৌশল সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের ব্যবহারিক ও কারিগরি পরামর্শ প্রদান করেন।
প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষণ দলের ২০ জন সদস্যের মধ্যে প্রত্যেককে ২০টি করে মোট ৪০০টি হাঁসের বাচ্চা বিতরণ করা হয়। উপকারভোগীদের মধ্যে ছিলেন সামুয়েল মুরমু, রেখা বাস্কী, আসন্তা মুরমু, নাচন হাঁসদা, কান্দনী মুরমুসহ অন্যান্য সদস্যরা। এ সহায়তার মাধ্যমে তাদের পারিবারিক আয় বৃদ্ধি এবং পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে কমিউনিটি ও স্থানীয় বাজারে মুদি দোকান সম্প্রসারণের জন্য ৫ জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। উপকারভোগীরা হলেন বেটকা টুডু, মিলন সরেন, কৃষ্ণ রায়, যসদা রায় এবং মঙ্গলা সরেন। তাদের প্রত্যেককে ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, হাঁস-মুরগি পালন ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়িক কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রান্তিক ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন সম্ভব। এ ধরনের উদ্যোগ তাদের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই জীবিকায়নের সুযোগ তৈরি করবে।অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন নিকোলাস মুরমু, এরিয়া ম্যানেজার, এসআইএল ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এরিয়া অফিস। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ইস্রায়েল হাঁসদা, এরিয়া সুপারভাইজার এবং মনিকা সরেন, প্রজেক্ট অ্যানিমেটর।
আয়োজকরা জানান, ডিআইবি প্রকল্পের মাধ্যমে ভবিষ্যতেও লক্ষিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, আয়বর্ধক কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।