মুনিরুল ইসলাম মুনির
বিতর্কিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সাবেক ৩৩ জেলা প্রশাসককে (ডিসি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। গতকাল বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর আগে একই অভিযোগে আরও ১২ ডিসিকে ওএসডি করা হয়।
বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতায় রাখতে ২০১৮ সালে সংসদ নির্বাচনে দিনের ভোট রাতে সম্পন্ন করার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রশাসনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় এই অপকর্ম চালানো হয়। সেই ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে দু'দফায় মোট ৪৫ সাবেক জেলা প্রশাসককে ওএসডি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হলো।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তীতে দেশ-বিদেশে 'রাতের ভোটের নির্বাচন' নামে কুখ্যাতি পায়। বাস্তবে জালিয়াতি ও প্রতারণাপূর্ণ ওই নির্বাচনে মানুষকে ভোট দিতে দেওয়া হয়নি। ভোট গ্রহণের আগের রাতেই দলীয় কর্মী, পুলিশ ও নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ব্যালট বাক্স ভরে রাখেন। প্রহসনের ওই নির্বাচনের যাবতীয় খরচ কার্যত ছিল রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় এবং আত্মসাৎ।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতনের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ৮ আগস্ট রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেয় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। দায়িত্ব গ্রহণের পর অন্তর্বর্তী সরকার বিতর্কিত ওই নির্বাচনের বিষয়ে তদন্তে নামে। এরই অংশ হিসেবে বিতর্কিত জেলা প্রশাসকদের তালিকা চেয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায় দুর্নীতিদমন কমিশন (দুদক)। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তৎকালীন জেলা প্রশাসকদের সম্পর্কে প্রতিবেদন নেওয়া হয়।
অধিকাংশ সাবেক ডিসি অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করে সহায়-সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে দুদকের তদন্তে প্রমাণ মিলেছে। আর্থিক অনিয়ম সম্পর্কে যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দুদকে জমা হয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে ৫৪ জনকে ওএসডি করা হয়েছে।
শুধু ওএসডি নয়, ওইসব জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে মামলাও হতে পারে। সরকারের শীর্ষ আমলাদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। সরকারের উচ্চ মহলকে তা অবহিত করা হয়েছে। এখন সবুজ সংকেত পেলে খুব শিগগির তাদের বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে। এরপর গ্রেপ্তারও হতে পারেন তারা। সরকারেরএকাধিক সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে রাতের ভোটের কারিগর আরও ৩৩ ডিসি ওএসডি
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়• ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দু'দফায় ওএসডি করা হলো ৪৫ সাবেক ডিসিকেবর্তমানে যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিতে• ওই নির্বাচনে জিততে আওয়ামী লীগ বিপুল অর্থ ব্যয় করেছিল জেলা প্রশাসকসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পেছনে২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর। বিতর্কিত-সমালোচিত রাতের ভোটের ওই নির্বাচনের ভিত্তিতে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে নতুন সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। পরবর্তীতে পুরো মেয়াদে ক্ষমতায় থাকে আওয়ামী লীগ। ফ্যাসিস্ট সরকার এরপর আয়োজন করে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের। বিতর্কিত এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে টানা চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ।
২০১৮ সালের রাতের ভোটের নির্বাচনের দীর্ঘ পাঁচ বছর আট মাস পর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। তারপরও এসব ডিসির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার। উল্টো তারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণস্বৈরাচারের ক্ষমতা প্রলম্বিত করতে সহায়তাকারী ডিসিরা দেশদ্রোহের অপরাধ করেছেন। তাদেরকে প্রশাসন থেকে অপসারণ ও গ্রেপ্তার করে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে আব্দুস সাত্তার বৈষম্যবিরোধী কর্মচারী ঐক্য ফোরামের আহ্বায়ক ও সাবেক সচিব।