খালিদ হাসান সোহাগ
বছর ঘুরে আবারও মুসলিম উম্মাহর মাঝে উপস্থিত হয়েছে রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের মহিমান্বিত মাস পবিত্র মাহে রমজান। আজ এশার নামাজের পর থেকেই শুরু হবে পবিত্র তারাবির নামাজ। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরাও গভীর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে এই মাসকে বরণ করে নিচ্ছেন।
রমজান মাস ইসলাম ধর্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাস। এ মাসে মহান আল্লাহ তায়ালা মুসলমানদের উপর রোজা ফরজ করেছেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন—
"হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।"
— (সূরা আল-বাকারা: ১৮৩)
এ মাসেই নাজিল হয়েছে মহাগ্রন্থ আল-কুরআন, যা মানবজাতির জন্য হেদায়েতের দিশারি। আল্লাহ তায়ালা বলেন—
"রমজান মাস, এতে নাজিল করা হয়েছে কুরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যকারী।"
— (সূরা আল-বাকারা: ১৮৫)
রমজান মাসের বিশেষ আমলগুলোর মধ্যে তারাবির নামাজ অন্যতম। এটি সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ, যা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) নিজে আদায় করেছেন এবং সাহাবায়ে কেরামদের আদায় করতে উৎসাহিত করেছেন।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
"যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে এবং সওয়াবের আশায় রমজানে রাতে (তারাবি) নামাজ আদায় করবে, তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।"
— (সহিহ বুখারি: ৩৭, সহিহ মুসলিম: ৭৫৯)
আরেক হাদিসে এসেছে—
"যে ব্যক্তি ইমামের সাথে তারাবির নামাজ শেষ পর্যন্ত আদায় করে, তার জন্য পুরো রাত নামাজ পড়ার সওয়াব লেখা হয়।"
— (সুনান আবু দাউদ: ১৩৭৫, তিরমিজি: ৮০৬)
রমজান মাসকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে— প্রথম দশ দিন রহমতের, দ্বিতীয় দশ দিন মাগফিরাতের এবং শেষ দশ দিন নাজাতের।
রাসূল (সা.) বলেছেন—
"যখন রমজান আসে, জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানদের শৃঙ্খলিত করা হয়।"
— (সহিহ বুখারি: ১৮৯৯, সহিহ মুসলিম: ১০৭৯)
রমজানের আগমনে দেশের বিভিন্ন মসজিদে বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। মসজিদগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে এবং মুসল্লিদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আজ এশার নামাজের সাথে সাথে শুরু হবে পবিত্র তারাবির নামাজ।
ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এই মাসে বেশি বেশি ইবাদত, কুরআন তিলাওয়াত, দান-সদকা এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য আত্মনিয়োগ করবেন।
ইসলামী চিন্তাবিদরা বলেন, রমজান শুধু ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করার নাম নয়, বরং আত্মশুদ্ধি, ধৈর্য এবং তাকওয়া অর্জনের মাস।
মুসলিম উম্মাহ আশা করছেন, পবিত্র এই মাস সবার জীবনে বয়ে আনবে শান্তি, কল্যাণ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি।