শনিবার, ২৭শে চৈত্র ১৪৩২, ১১ই এপ্রিল ২০২৬
BD NEWS LIVE 99
BD NEWS LIVE 99

জুমাবার যে কারণে মুমিনের জীবনের শ্রেষ্ঠ দিন

ছবি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি

নিউজ ডেস্ক

মুমিন মুসলমানের জীবন আল্লাহর রহমত ও নিয়ামতে ঘেরা। আর এই রহমত প্রাপ্তির শ্রেষ্ঠ দিন হলো জুমাবার বা শুক্রবার।

পবিত্র কোরআনে সুরা রাহমানে আল্লাহ তাআলা বারবার প্রশ্ন করেছেন, ‘অতএব, তোমরা তোমাদের রবের কোন কোন নিয়ামতকে অস্বীকার করবে?’ জুমার দিনটি মূলত সেই নিয়ামত ও বরকতের এক বিশেষ ভান্ডার। দিনটির প্রতিটি ক্ষণে সাজানো রয়েছে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের হাতছানি।জুমার বিশেষ মর্যাদাজুমার দিনটি উম্মতে মুহাম্মদির জন্য এক অনন্য প্রাপ্তি। যদিও এই উম্মত পৃথিবীতে এসেছে সবার শেষে, কিন্তু পরকালে মর্যাদার দিক থেকে তারা থাকবে সবার আগে।

হাদিসে এসেছে:

সবার অগ্রবর্তী উম্মত: নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘পূর্ববর্তী উম্মতদের জুমার দিন সম্পর্কে অজ্ঞ রাখা হয়েছিল। ইহুদিদের জন্য শনিবার এবং খ্রিষ্টানদের জন্য রোববার নির্ধারিত ছিল। আল্লাহ আমাদের জুমার দিনের শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। ফলে কিয়ামতের দিন আমরাই সবার আগে থাকব।’ (সহিহ্ মুসলিম)

দিনসমূহের শ্রেষ্ঠ দিন: জুমার দিন সূর্য উদিত হওয়া দিনগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ। এই দিনেই আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং জান্নাত থেকে বের করা হয়েছে। (সহিহ্ মুসলিম)

জুমার দিনের ৯টি বিশেষ নিয়ামত ও ফজিলত

১. গুনাহ মাফের দিন: জুমার দিন উত্তমভাবে গোসল ও সুগন্ধি মেখে নামাজে গেলে এবং ইমামের খুতবা মনোযোগ দিয়ে শুনলে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত সব সগিরা গুনাহ মাফ হয়ে যায়। (সুনানে আবু দাউদ)

২. প্রতি কদমে এক বছরের সওয়াব: পায়ে হেঁটে মসজিদে গেলে প্রতি কদমের বিনিময়ে এক বছরের নফল রোজা ও নামাজের সওয়াব পাওয়া যায়। (জামে তিরমিজি)

৩. সাপ্তাহিক ঈদ: নবীজি (সা.) দিনটিকে মুসলমানদের জন্য ঈদের দিন হিসেবে ঘোষণা করেছেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ)

৪. কবরের আজাব থেকে মুক্তি: জুমার দিনে বা রাতে কোনো মুসলমান ইন্তেকাল করলে আল্লাহ তাকে কবরের আজাব থেকে মুক্তি দান করেন। (জামে তিরমিজি)

৫. শ্রেষ্ঠ নামাজ: জুমার দিনের ফজরের নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করা আল্লাহর কাছে সর্বশ্রেষ্ঠ নামাজ। (সিলসিলাতুস সহিহা)

৬. কোরবানির সওয়াব: জুমার আজানের আগে মসজিদে প্রবেশ করলে পর্যায়ক্রমে উট, গাভি ও মুরগি কোরবানি করার সমপরিমাণ সওয়াব পাওয়া যায়। (সহিহ্ বুখারি)

৭. দাজ্জালের ফিতনা থেকে মুক্তি: এ দিন সুরা কাহাফ পাঠ করলে পাঠক দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকে। (সহিহ্ মুসলিম)

৮. নুরের আভা: যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহাফ পাঠ করবে, তার জন্য এক জুমা থেকে অপর জুমা পর্যন্ত বিশেষ নুর উজ্জ্বল করা হবে।

৯. দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত: জুমার দিনে এমন একটি মুহূর্ত আছে, যখন কোনো বান্দা আল্লাহর কাছে যা চায়, আল্লাহ তা-ই কবুল করেন। (সুনানে আবু দাউদ)

জুমার দিনের সেরা ৫টি আমলজুমার বরকত ও মাগফিরাত লাভে নিচের আমলগুলো অত্যন্ত জরুরি:

১. সুরা কাহাফ তিলাওয়াত: জুমার দিন সুরা কাহাফ পাঠ করা সুন্নত। এটি দাজ্জালের ফিতনা ও দুনিয়ার যাবতীয় আপদ থেকে রক্ষা করে।

২. বেশি বেশি দরুদ পাঠ: নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা এই দিনে আমার ওপর অধিক পরিমাণে দরুদ পড়ো। কারণ, তোমাদের দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়।’ (সুনানে আবু দাউদ)

৩. আগে আগে মসজিদে যাওয়া: জুমার দিন তাড়াতাড়ি মসজিদে যাওয়ার আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। ফেরেশতারা মসজিদের দরজায় দাঁড়িয়ে প্রথম আগমনকারীদের নাম লিখতে থাকেন।

৪. কথা না বলা ও মনোযোগ দেওয়া: খুতবা চলাকালে কথা বলা বা অন্যকে ‘চুপ করো’ বলাও অনর্থক কাজ। এতে জুমার সওয়াব নষ্ট হতে পারে।

৫. বিশেষ মুহূর্তে দোয়া: আসরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময়টি দোয়া কবুলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জুমার দিনটি কেবল একটি ছুটির দিন নয়, বরং এটি আত্মিক উন্নতির ও পরকালের পাথেয় সংগ্রহের দিন। আসুন, আমরা নিয়মিত জুমার আমলগুলো করার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করি।

Share:
মন্তব্য সমুহ
মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন
আর্কাইভ

Follow Us

এলাকার খবর

ad

ফিচার নিউজ

১০ ঘন্টা ৫৪ মিনিট পূর্বে / সিরাজগঞ্জ জেলা

তেল পেতে গেঞ্জিতে ফুয়েল কার্ড প্রিন্ট করলেন ব্যবসায়ী

১৫ ঘন্টা ৬ মিনিট পূর্বে / ধর্মীয় সংবাদ

জুমাবার যে কারণে মুমিনের জীবনের শ্রেষ্ঠ দিন

২ দিন পূর্বে / চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা

পিচ কার্পেটিংয়ের বদলে মাটি দিয়ে সড়ক ঢাকলো ঠিকাদার,…