মুনিরুল ইসলাম মুনির
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের সাধারণ মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে এবং ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় জামায়াতে ইসলামী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “জনগণ এখন পরিবর্তন চায়, আর সেই পরিবর্তনের অগ্রভাগে থাকবে সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব।”
আমীরে জামায়াত তাঁর বক্তব্যে দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, অতীতের শাসন ও অপশাসনে সাধারণ মানুষ বৈষম্যের শিকার হয়েছে। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে আল্লাহর আইন ও সৎ মানুষের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, “একজন সাধারণ মানুষের জন্য যে বিচার ও শাস্তি প্রযোজ্য, রাষ্ট্রপতি কিংবা প্রধানমন্ত্রী অপরাধ করলেও তাদের ক্ষেত্রেও সেই একই বিচার কার্যকর করতে হবে। বিচার হবে সবার জন্য সমান—মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কিংবা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী—কারও ক্ষেত্রে ভিন্নতা থাকবে না। আমরা বাংলাদেশে প্রকৃত ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে চাই।”
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিস্তা পাড় থেকে সমুদ্র উপকূল, জাফলং থেকে সুন্দরবন, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া—সারা দেশে ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ এই গণজোয়ারের গর্বিত অংশীদার।
তিনি বলেন, “৫৪ বছরের শাসন ও অপশাসন দেখে মানুষ ক্লান্ত। জনগণ এখন পুরোনো বন্দোবস্তের রাজনীতি আর দেখতে চায় না। জুলাইয়ের আন্দোলনে তরুণরা রাস্তায় নেমে বলেছিল—‘We want justice’। অর্থাৎ সর্বত্র ন্যায়বিচারের অভাব রয়েছে। আমরা সেই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে চাই।”
জামায়াত আমীর বলেন, জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে এলে উত্তরবঙ্গকে কৃষি-শিল্পের রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তিনি মায়ের সম্মান রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “যে জাতি মায়েদের সম্মান করে, আল্লাহ সেই জাতির সম্মান বাড়িয়ে দেন।”
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, আম ও লিচুর জন্য হিমাগার স্থাপন, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, মহানন্দা নদী সংস্কার, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষিত যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
সভায় আমীরে জামায়াত চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনের দলীয় প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দিয়ে তাদের বিজয়ী করতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রার্থীরা হলেন—
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১: ড. মাওলানা কেরামত আলী
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (ভোলাহাট, গোমস্তাপুর, নাচোল): ড. মিজানুর রহমান
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর): নূরুল ইসলাম বুলবুল
তিনি বলেন, জামায়াত মনোনীত প্রার্থীরা বিজয়ী হলে প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় ইনসাফ কায়েম করা হবে এবং সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির কোনো স্থান থাকবে না।
সকাল থেকেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠ ও আশপাশের এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে জনসভাস্থল। ডা. শফিকুর রহমান মঞ্চে উঠলে উপস্থিত জনতা করতালির মাধ্যমে তাকে অভিবাদন জানান।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবু জার গিফারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দামসহ অন্যান্য নেতারা। বক্তারা বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় জামায়াতে ইসলামী অতীতে যেমন রাজপথে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।
সভা শেষে আমীরে জামায়াত হেলিকপ্টারযোগে রাজশাহীর গোদাগাড়ীর উদ্দেশে রওনা দেন।