মঙ্গলবার, ৩১শে ভাদ্র ১৪৩৩, ১৫ই সেপ্টেম্বর ২০২৬
BD NEWS LIVE 99
BD NEWS LIVE 99

চাঁদাবাজি করতে গিয়ে ফের জনতার হাতে আটক যুবদল নেতা


নিউজ ডেস্ক

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় আবারও আলোচনায় কথিত যুবদল নেতা শাহেদ। পারিবারিক বিরোধের মীমাংসার নামে স্থানীয় গোপালপুর বাজারে এক ব্যবসায়ীর পরিবারের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ করে।

বাজারজুড়ে আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছেন জুয়েল মোল্লার ছেলে এই যুবক, যিনি নিজেকে গোপালপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি পরিচয় দিয়ে থাকেন। যদিও এর আগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলা যুবদলের সভাপতি জানিয়েছেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে কোনো তাদের কমিটিই নেই।

ঘটনার সূত্রপাত রোববার (১৫ জুন) রাত ১০টার দিকে। ফয়সাল নামের এক মুরগি ব্যবসায়ীর পারিবারিক বিরোধের জেরে শাহেদ ও তার প্রায় ১০ জন সহযোগী ফয়সালের দোকানে এসে তাকে বাইরে যেতে বলেন। সে দোকানেই অবস্থান করলে তাকে হুমকি দিয়ে বলেন, মীমাংসা না করলে ‘খবর আছে’।

পরদিন সোমবার (১৬ জুন) সকাল ১০টার দিকে আবারও দোকানে গিয়ে ফয়সালকে না পেয়ে তার বাবা মুল্লুক চান ওরফে মুন্নুর কাছে শাহেদ বলেন, ‘চাচা, কিছু টাকা দেন, সব ঠিক হয়ে যাবে, না হলে ঝামেলা হবে।

’বিকেলে শাহেদ আবার আসে, পরে টাকা না পেয়ে মুল্লুক চানকে ধাক্কা মেরে ক্যাশ বাক্স থেকে টাকা নিয়ে নেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার। চিৎকার শুনে বাজারের লোকজন ছুটে এসে শাহেদকে আটক করে, তবে তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়।

এক পর্যায়ে ফয়সাল ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা চাইলে, পুলিশের আগেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান আলফাডাঙ্গা পৌর যুবদলের সভাপতি মিজান ও তার লোকজন। পরে পুলিশ এলে মিজানের ‘ম্যানেজিং’ এ শাহেদকে ছাড়িয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

এ ঘটনার বিষয়ে কথা বলতে চাইলে ফয়সাল বলেন, ‘আমার পারিবারিক সমস্যাকে ঘিরে জোর করে টাকা দাবি করেছে। দোকানে না থাকায় বাবাকে হুমকি দিয়ে আমার বাবা ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে ফেলে দিয়ে বাক্স থেকে টাকা নিয়েছে। আমরা থানায় জানিয়েছি কিন্তু প্রতিকার পাচ্ছি না।

’শুধু এই ঘটনাই নয়, এর আগে গত ৯ জুন কামারগ্রামের মুদি ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামের দোকানে গিয়ে সিগারেট না থাকায় পিস্তল ঠেকিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করে শাহেদ। পরে ড্রয়ার ভেঙে টাকা নিয়ে চলে যায়। ফয়সালের মতো রফিকুলও থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

পাশাপাশি ঈদের সময় বাড়ি বেড়াতে আসা এক গার্মেন্টস কর্মী কাওসার খানকেও রাস্তা আটকে মারধরের অভিযোগ রয়েছে শাহেদের বিরুদ্ধে।বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, কাপড় ব্যবসায়ী জয়, কাঁচামালের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর খান এবং টিটিসি মোড়ের কাবুলের দোকানেও একই ধরণের হুমকি-চাঁদাবাজি চালিয়েছে শাহেদ। তারা বলেন, অন্য ব্যাবসায়ীরা থানায় অভিযোগ করেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে এমন হুমকি-চাঁদাবাজির ঘটনায় আতঙ্কে আগেভাগেই দোকান বন্ধ করতে হয়। অভিযোগ করার পরেও পুলিশ ব্যবস্থা না নেওয়ায় শাহেদ দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

এসব বিষয়ে অভিযুক্ত শাহেদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়।পৌর যুবদলের সভাপতি মিজান বলেন, ‘শাহেদ আমার লোক। ওর মা নেই। এ কারণে আমি ওকে দেখে শুনে রাখি, ১০০-২০০ টাকা দিলে তাতেই চলে। কামারগ্রাম আমার পৌরসভার বাইরে।

’তবে তাকে নিজ হাতে পুলিশি উপস্থিতিতে ছাড়িয়ে নেওয়ার প্রশ্নে কোনো স্পষ্ট উত্তর দেননি তিনি। বলেন, এগুলো নিয়ে গেম চলছে।

Share:
মন্তব্য সমুহ
মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন
আর্কাইভ

Follow Us

এলাকার খবর

ad

ফিচার নিউজ

১৭ ঘন্টা ৪২ মিনিট পূর্বে / চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বন্যার্ত ১২০ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

২২ ঘন্টা ৩২ মিনিট পূর্বে / চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা

ডেঙ্গু প্রতিরোধে রহনপুর ইউসুফ আলী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের…

১ দিন পূর্বে / চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা

শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির অভিযানে বিদেশি মদ ও…