শাহিনুর রহমান সোনা,রাজশাহী ব্যুরো
রাজশাহীতে নিরাপত্তারক্ষী ও শ্রমিকদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি রাজশাহী।
বুধবার (১৩ আগষ্ট) দুপুর ১২ টায় রাজশাহীর সিআইডি সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার এ এ এম হুমায়ুন কবির পিপিএম এসব তথ্য জানান।
তিনি জানান, গত ৭ আগষ্ট রাত ১.৩০ মি. রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় দেশ কোল্ড স্টোরেজ প্রা: লি: হিমাগারে ঢুকে নিরাপত্তারক্ষী ও শ্রমিকদের অস্ত্রের মুখে বেঁধে হিমাগারের পাওয়ার হাউসের মূল্যবান যন্ত্রপাতি ডাকাতেরা নিয়ে যায়। এসময় ডাকতেরা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অফিস কক্ষে আলমারি ভাংচুর করে নগদ ৩ লাখ ৩৩ হাজার টাকাসহ সর্বমোট ৬৩ লাখ টাকার মালামাল লুট করে। এ ঘটনায় সেদিন-ই মোহনপুর থানায় মামলা হয়।
অজ্ঞাতনামা ৩০-৩৫ জন ডাকাত রামদা, শাবল, হাঁসুয়াসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রাজশাহীর মোহনপুর থানার বাকশিমইল ইউনিয়নের গাঙ্গোপাড়ার "দেশ কোল্ড স্টোরেজ (প্রা.) লি:” এর মেইনগেটের ২ জন নিরাপত্তা প্রহরীর হাত-পা ও চোখ বেঁধে রেখে ট্রাক নিয়ে কোল্ড স্টোরেজের ভিতরে ঢোকে । ডাকাত দল কোল্ড স্টোরেজের লেবার কোয়ার্টারে ঘুমিয়ে থাকা ১৮জন লেবারকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রত্যেকের হাত-পা ও চোখ বেঁধে রেখে, লেবার সর্দারের রুমের তালা কেটে নগদ টাকা লুট করে। এ ঘটনায় ডাকাতির সাথে জড়িত আসামিদের সনাক্ত করে সিআইডি ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জ সদর থানার পিপুলবাড়িয়া এলাকার মৃত মফজেল শেখ'র ছেলে সাজেদুল শেখ (৩৫) এবং শাহজাদপুর থানার বিনোটিয়া'র মৃত মোজাম্মেল হক'র ছেলে মোঃ রুবেল (১৯) কে গ্রেফতার করে।
আটকদের কাছ থেকে এবং তাদের দেওয়া তথ্যে Lucas ব্যাটারি, সেলাই রেঞ্জ, হাতলযুক্ত লোহার হাতুড়ি, গুটি রেঞ্জ, ডাল রেঞ্জ, প্লাস, স্ক্রু-ড্রাইভার, নাট-বোল্ট খোলার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরণের রেঞ্জ এবং ডাকাতির ঘটনায় ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির জানান, সিরাজগঞ্জের বেলকুচির বাবা ও ছেলে সাদেক ও হাসান বর্তমানে ঢাকায় থেকে এই ডাকাত দল পরিচালনা করেন। তাদের নেতৃত্বে অন্তত ৫০ জনের একটি দল ট্রাক নিয়ে সারাদেশের কলকারখানা থেকে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, তামার তার ডাকাতি করে। এই দলেরই ১৪ জন রাজশাহী দেশ কোল্ড স্টোরেজে ডাকাতিতে অংশ নিয়েছিল। বাকীদের গ্রেফতারে কাজ চলছে।
তিনি আরো জানান, রাজশাহীতে অংশ নেয়া ডাকাত দলের ৮ সদস্য নাটোর চিনিকলে ডাকাতির সাথে সম্পৃক্ত ছিল৷ এই গ্রুপটি রংপুর চিনি কলে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। হুমায়ুন কবীর জানান, এই ডাকাত চক্রের সদস্যদের অধিকাংশ সিরাজগঞ্জের। তারা ঢাকায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। এই চক্রের দুজন সারা দেশে ঘুরে ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করে। পরে দলের প্রধান বাবা ও ছেলে ডাকাতির স্থান নির্ধারণ করে জানিয়ে দেয়। একটা ডাকাতির ঘটনায় ১০ থেকে ১৫ জন অংশ নেন। এর বিনিময়ে প্র্যতেকে ১৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পারিশ্রমিক দেয়া হয়।
সিআইডি জানিয়েছে, ডাকাতির জন্য তারা দুটি নম্বরবিহীন পিকাপ ভ্যান ব্যবহার করে। একটা মোবাইল ও সিম একবার ব্যবহার করে ফেলে দেয়। এই দলের সদস্যদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে।