খালিদ হাসান সোহাগ
পৌষ মাসের শুরুতেই শীতের দাপটেকাঁপছে দেশ। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। কোথাও কোথাওতাপমাত্রা নেমে এসেছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। উত্তরের হিমেল বাতাসের প্রভাবে কনকনে ঠান্ডায়স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। মানুষ তো বটেই, প্রাণীকূলও শীতে জবুথবুঅবস্থায় রয়েছে।
সকালবেলা ঘন কুয়াশার কারণে
সূর্যের দেখা মিলছে না। দুপুরে সামান্য রোদ উঠলেও তা শীত নিবারণে যথেষ্ট নয়। ভোর থেকেই
কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে সড়ক-মহাসড়ক, মাঠঘাট ও ফসলি জমি। যানবাহন চলাচল করছে হেডলাইট
জ্বালিয়ে, ধীরগতিতে। অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের হচ্ছেন না সাধারণ মানুষ।
ঘন কুয়াশার প্রভাবে সন্ধ্যার
পরপরই পাটুরিয়া–দৌলতদিয়া ও আরিচা–কাজিরহাট নৌপথে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। রাজধানী
ঢাকাসহ দেশের আটটি বিভাগের ওপর দিয়ে বর্তমানে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। শুক্রবার
যশোরে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
উত্তরাঞ্চলের পরিস্থিতি আরও
ভয়াবহ। টানা কয়েক দিন ধরে শৈত্যপ্রবাহ ও কনকনে ঠান্ডায় সেখানে জনজীবন কার্যত স্থবির
হয়ে পড়েছে। তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষ।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে,
বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা, যশোর, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও নীলফামারী—এই সাত জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। শুক্রবার চুয়াডাঙ্গায়
সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবার সকালে যশোরে রেকর্ড করা
হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী
অন্তত পাঁচ দিন হালকা থেকে ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে নৌ, সড়ক ও বিমান চলাচলে
সাময়িক বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে জানুয়ারির শুরুতে শীত আরও তীব্র আকার ধারণ
করতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
২৬ থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত
মধ্যরাত থেকে সকাল সময়জুড়ে সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। কোনো কোনো এলাকায়
এই কুয়াশা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। পাশাপাশি কয়েকটি অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত
থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে।
আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক
জানিয়েছেন, কুয়াশার প্রবণতা আরও কয়েক দিন থাকবে এবং নতুন বছরের শুরুতেই শীতের প্রকোপ
বাড়তে পারে।
শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি
দুর্ভোগে পড়েছেন ছিন্নমূল মানুষ, শিশু ও বয়স্করা। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে অনেকেই
ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে হিমালয় থেকে বয়ে আসা হিমেল
বাতাসে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। ঘন কুয়াশা আর হাড়-কাঁপানো ঠান্ডায় সেখানে মানুষের
জীবনযাত্রা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। টানা পাঁচ দিন ধরে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এই জেলায়।
শুক্রবার তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে,
আগামী ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। আগামী মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর)
পর্যন্ত শীতের তীব্রতা ধীরে ধীরে বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। শীত হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার পেছনে উপমহাদেশীয়
উচ্চচাপ বলয়ের প্রভাবকে দায়ী করছেন আবহাওয়াবিদরা। এই বলয়ের বর্ধিতাংশ বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ
ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবস্থান করছে, যার প্রভাবে বাংলাদেশেও শীত বাড়ছে।
আগামী কয়েক দিন আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে সার্বিকভাবে ঠান্ডার অনুভূতি আরও তীব্র হতে পারে।<