নাসিম আলী,স্টাফ রিপোর্টার
কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের পিরোজপুর গ্রাম। এখানে রয়েছে মধ্যযুগের মুসলিম আধিপত্যের এক অমূল্য রত্ন ছোট সোনা মসজিদ। প্রায় ৫০০ বছর আগের এই প্রাচীন নিদর্শন দেখতে প্রতিদিন দেশ-বিদেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আছেন হাজারো পর্যটক।
১৪৯৩ থেকে ১৫১৯ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে বাংলার স্বাধীন সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের রাজত্বকালে এটি নির্মিত হয়। মসজিদের শিলালিপি অনুযায়ী ওয়ালী মোহাম্মদ বিন আলী নামের এক ব্যক্তি এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। একসময় এই মসজিদের গম্বুজগুলো সোনালী রঙের আস্তরণে মোড়ানো ছিল বলেই এর নাম সোনা মসজিদ। ইট পাথর ও টেরাকোটার চমৎকার কারুকাজে তৈরি এই মসজিদে মোট ১৫ টি গম্বুজ রয়েছে।
মসজিদের দক্ষিণ- পূর্ব কোণে শায়িত আছেন মহান মুক্তিযুদ্ধে অসীম সাহস এর পরিচয় দেওয়া বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর এবং শহীদ মেজর নাজমুল হক টুলু। তাদের কবর জিয়ারত করতে এবং ঐতিহাসিক এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন দেখতে আসা দর্শনার্থী ও পর্যটকদের জন্য এলাকাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ছোট সোনা মসজিদ কেবল চাঁপাইনবাবগঞ্জে নয়, পুরো বাংলাদেশের একটি গৌরবময় ঐতিহ্য। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ নারী ও শিশুরা এখানে আছেন। তাই এখানকার পরিবেশকে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অস্থিতিশীলতা থেকে রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঐতিহাসিক এই সম্পদের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ করা আমাদের নাগরিক অধিকার ও দায়িত্বের অংশ। প্রশাসন ও স্থানীয় সচেতন সমাজকে একযোগে এই প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষা খুবই জরুরী বলে মন্তব্য প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখা সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন মেহেদী।